Login | Register

ফতোয়া: আদব-ব্যবহার

ফতোয়া নং: ৪৮৯০
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

তারাবীহ নামায আট রাকাত নাকি বিশ রাকাত? বিরোধীদের জবাবসহ একটি দালিলিক উত্তর ৷

প্রশ্ন
শ্রদ্ধেয় মুফতী সাহেব! আহলে হাদীসরা বলে তারাবীহ নামায আট রাকাত ৷ বিশ রাকাতের কোন দলিল নেই ৷ বুখারি শরীফে নাকি আট রাকাতের কথা উল্লেখ আছে ৷ এ বিষয়ে দলিল সহ বিস্তারিত জানালে ভাল হত ৷
উত্তর
তথাকথিত নামধারী আহলে হাদীসদের অজ্ঞতার নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে একটি হল, বিশ রাকাত তারাবীহ এর কোন দলিল নেই দাবী করা ৷ দেখুন তারাবীহ নামায বিশ রাকাতের প্রমাণ:
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রমজান মাসে বিশ রাকাত এবং বিতির পড়তেন।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-২/২৯৪, হাদীস নং- ৭৬৯২, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১২১০২; সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯১ ৷
হযরত জাবের রাঃ বলেনঃ রমজান মাসের এক রাতে রাসূল সাঃ বাহিরে তাশরীফ আনলেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাত নামায পড়ালেন। (চার রাকাত ইশা বিশ রাকাত তারাবীহ) আর তিন রাকাত বিতির পড়ালেন।
-তারীখে জুরজান-২৭ ৷
হাদীসে একটু দুর্বলতা থাকলেও যদি তার উপর উম্মতের ঐক্যমত্বের আমল পাওয়া যায় তাহলে আমল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার দ্বারা উক্ত হাদীস সহীহ হয়ে যায়।
উম্মতের আমল:
হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এক ব্যক্তিকে বিশ রাকাত পড়ার হুকুম দিলেন।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-২/২৯৩ ৷
হযরত সায়েব বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ এর সময়কালে বিশ রাকাত তারাবীহ ছিল।
-ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬ ৷
হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ বলেনঃ আমরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতির পড়তাম।
-সুনানে সুগরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৮৩৩ ৷
হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে লোকেরা বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। আর হযরত উসমান রাঃ এর শাসনামলে লম্বা কেরাতের কারণে লাঠির উপর ভর দিতেন।
-বায়হাকী-৪/২৯৬ ৷
হযরত আবু আব্দুর রহমান সুলামী রঃ বলেন, হযরত হযরত আলী রাঃ রমজান মাসে ক্বারীদের ডাকতেন। তারপর তাদের মাঝে একজনকে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতে হুকুম দিতেন। আর বিতিরের জামাত হযরত আলী নিজেই পড়াতেন।
-বায়হাকী-৪/৪৯৬ ৷
হযরত আতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি লোকদের অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেয়ীগণকে বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির পড়তে দেখেছি।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-২/৩৯৩ ৷
মদীনায় হযরত ওমর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ, হযরত আলী রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহই পড়া হতো। আজো মদীনা মুনাওয়ারায় মক্কা মসজিদে হারামে কুফা বসরায় বিশ রাকাত তারবীহই পড়া হয়। জুমহুরে সাহাবা তাবেয়ী চার ইমামের মাজহাবও বিশ রাকাতের স্বপক্ষে এভাবেই চলতে থাকে। ইংরেজ আমলের পূর্বে কোন একজন মুহাদ্দিস বা ফক্বীহ এটাকে অস্বিকার করেননি। শুধু ইংরেজদের দালালরা হাজার বছর পর এসে বিশ রাকাত তারাবীহ কে অস্বিকার করে ৷
১২৮৪ হিজরীর ইংরেজ আমলের আগে বিশ্বের কোন মসজিদে রমজানে আট রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়ার কোন দৃষ্টান্ত নেই। না মসজিদে নববীতে কোনদিন আট রাকাত তারাবীহ পড়া হয়েছে। না বাইতুল্লায়। না পৃথিবীর কোন মুসলিম পল্লিতে। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে সর্বপ্রথম এ বিদআতের সূচনা হয়।
তাদের অজ্ঞতার আরেকটি নিদর্শন হল, তারাবীহ নামায আট রাকাতের স্বপক্ষে যে, বোখারী শরীফের একটি হাদীস উল্লেখ করে থাকে। হাদীসটি হল, হযরত আবু সালমা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত তিনি আয়েশা রাঃ এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, রমযান মাসে নবীজী সাঃ এর নামায কেমন হত ? তিনি বললেন-রাসূল সাঃ রমযান ও রমযান ছাড়া ১১ রাকাত থেকে বাড়াতেন না। তিনি ৪ রাকাত পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪ রাকাত তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাত। হযরত আয়েশা রাঃ বলেন-তখন আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন-হে আয়েশা! নিশ্চয় আমার দু’চোখ ঘুমায় কলব ঘুমায়না।
-সহীহ বুখারী-১/১৫৪ ৷
তাদের দাবী হল, ১১ রাকাতের মধ্যে আট রাকাত তারাবীহ আর তিন রাকাত বিতির ৷
এবার আসুন মূল রহস্যে;
উক্ত হাদীস দিয়ে তারাবীহ আট রাকাত প্রমান করা মুর্খতা বৈকিছু নয় ৷ দেখুন তাদের অজ্ঞতা ও মুর্খতার নিদর্শন:
১৷ উক্ত হাদীসে রমযান ও রমযানের বাহিরে এগার রাকাতের কথা উল্লেখ আছে, আর রমযানের বাহিরে কোনো তারাবীহ পড়ার কথা তারাও স্বীকার করে না। সুতরাং উক্ত হাদীস তারাবীর হতে পারে না।
২৷ সাহাবারা হাদীসের উদ্দেশ্য বেশী বুঝতেন, ওমর রাঃ এর জামানায় বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতের সহিত হত সমস্ত সাহাবীর ঐক্কমতে। কেহ অস্বীকার করেন নি, আট রাকাতের কথাও বলেন নি। খুদ আয়েশা রাঃ ও অস্বিকার করেন নি ৷ আয়েশা রাঃ এর উক্ত হাদীস যদি
তারাবীর হত অবশ্যয় সাহাবীদের বিশ রাকাত পড়তে বাধা দিতেন বা অস্বীকার করতেন। অতএব একথা স্পষ্ট যে এটি তারাবীহ এর নয় ৷
৩ ৷ এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় নবীজী সাঃ এক সালামে ৪, ৪ রাকাত করে তারাবীহ আর শেষে এক সালামে ৩ রাকাত বিতর পড়েছেন, অথচ কথিত আহলে হাদিসদের আমল এর বিপরীত। তারা তারাবীহ দুই দুই রাকাত করে পড়েন। আর বিতর এক রাকাত বা তিন রাকাত দুই সালামে পড়েন। সুতরাং যেই হাদিস দলিলদাতাদের কাছে আমলহীন এর দ্বারা কিভাবে দলিল দেয়া যায়?
৪৷ এই হাদিসটি কে ইমাম বুখারী রঃ কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে এনেছেন। এবং সিহাহ সিত্তার অন্যান্য ইমামগনও তাহাজ্জুদ বা অন্য অধ্যায়ে এনে তারাবীহ এর অধ্যায়ে না এনে এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, এই হাদিসটি তারাবীর নয় ।
৫৷ এই হাদিসের শেষাংশে আছে "তারপর আয়েশা রাঃ বললেন-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতির পড়ার আগে ঘুমান?" এ বিষয়টি তারাবীহ এর ক্ষেত্রে কিভাবে কল্পনা করা যায় যে, নবীজী সাঃ তারাবীহ নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর সাহাবীরা বিতির পড়ার জন্য নবীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। বরং এটি তাহাজ্জুদ এর ক্ষেত্রে ৷ নবীজী সাঃ তাহাজ্জুদ পড়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর সাহাবারা ফজর পড়ার জন্য অপেক্ষমাণ থাকেন ৷
অতএব এই হাদীস দ্বারা কোনভাবেই তারাবীহ নামায প্রমান করা সম্ভব নয় ৷ যে হাদীস দ্বারা কোন মুহাদ্দীস ফকীহ ইমাম তারাবীহ বুঝেন নি ৷ খুদ হয়রত আয়েশা রাঃ এ হাদীস বর্ননা করা সত্তেও কোনদিন বিশ রাকাতের বিরোদ্ধে কথা বলেন নি ৷ এ হাদীসকে আট রাকাত তারাবীর স্বপক্ষে দলিল পেশ করাকত বড় মুর্খতা ও অজ্ঞতা হতে পারে আন্দাজ করুন ৷ এছাড়া আহলে হাদীস ভাইয়েরা আর একটি সহিহ হাদীসও আট রাকাত তারাবীর স্বপক্ষে দেখাতে পারবে না ৷ সুতরাং পুরা উম্মতের হাজার বছরের আমলকে ডিঙিয়ে মনগড়া আট রাকাতের দাবী ডাষ্টিবিনে নিক্ষেপ করা ছাড়া কোন উপায় নেই ৷
আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝ দান ফরমান ৷ আমীন ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭৬
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

পরস্পর দুইজন একসাথে সালাম দিলে করনীয় ৷

প্রশ্ন
অনেক সময় আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে একসাথে সালাম দিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? আর যদি আগ-পর করে সালাম দেওয়া হয় তখন কি করনীয় ? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
দুইজন পরস্পরকে একসাথে সালাম দিলে প্রত্যেককে অন্যের সালামের জবাব দিতে হবে। আর যদি কারো সালাম আগে হয় অপর জনের
সালাম জবাব দেয়া় আবশ্যক হবে।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৪১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৭৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬৬
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

'আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু' এমন কথা বললে ঈমান থাকবে কি না?

প্রশ্ন
আমরা কিছুদিন আগে এক চিল্লার জন্য বের হয়েছিলাম ৷ এক মহল্লায় দাওয়াত দেয়ার জন্য বের হওয়ার পর একটি লোককে নামাযের দাওয়াত দেয়ার পর সে উত্তরে বলল, আমি নামায পড়ি না। আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু। আমাদের রাহবার ঐ মহল্লার ই একজন ছিলেন ৷ তিনি তাকে বললেন, আপনি এটা কি বলছেন? সে আবারো বলল, হাঁ, আমি হিন্দু। যান, যান। রাহবার সাহেব পরে বললেন লোকটি তাবলীগ বিরোধী ৷ জানার বিষয় হল, এ কথা বলার কারণে সে মুসলমান থাকবে কি না?
উত্তর
'আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু’ এ ধরনের কথা কুফরী অন্তর্ভুক্ত। এমন কথা কেউ স্বইচ্ছায় স্বজ্ঞানে বললে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যায় । অতএব প্রশ্নে বর্নিত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে এ কথা বলে থাকলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। বিবাহিত হলে তার বিবাহ ভেঙ্গে গেছে। সুতরাং এক্ষুণি কালিমা পড়ে ঈমান আনা অপরিহার্য হয়ে গেছে ৷ এবং বিয়েও দোহরিয়ে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পরেছে।
-আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৪৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৫৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫৭
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে চুমু খাওয়া লবন, চাউল ইত্যাদি সদকা করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আমরা অনুতপ্ত হই, সালাম করি, চুমু খাই ৷ আবার অনেকে বলে এক কেজি লবন চাউল ইত্যাদি বা তার সমমুল্য সদকা করতে হয় ৷ এগুলো কতটুকু সঠিক?
উত্তর
কুরআনে মাজীদের মত পবিত্র কিতাব হাত থেকে পড়ে গেলে অনুতপ্ত ভাব হওয়া ভাল লক্ষণ।
তবে এক্ষেত্রে সালাম করা, চুমু খাওয়া বা লবন চাউল ইত্যাদি সদকা করার কোন বিধান নেই। তবু যদি কেউ সুন্নত বা শরীয়তের বিধান মনে না করে এমনিতে সম্মানার্থে কুরআনে মাজীদ চুম্বন করে, তাহলে কোন সমস্যা নেই৷ কেননা হযরত ওমর রাঃ থেকে এ ব্যাপারে বর্ণিত আছে তিনি কুরআনে কারীম প্রতিদিন সকালে হাতে নিয়ে চুমু খেতেন। আর বলতেন, এটা আমার রবের নির্দেশনা, এবং আল্লাহর প্রেরিত। এমনিভাবে হযরত উসমান রাঃ ও কুরআনে মাজীদকে চুমু খেতেন এবং চোখে বুলাতেন।
রাদ্দুল মুহতার-৫/২৪৬, তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৫৯, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৭/১৪৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৪৯
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

অমুসলিমকে সম্ভাষণ করার পদ্ধতি ৷ আদাব ও নমস্কার বলার বিধান ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমাদের স্কুল, কলেজ লাইফের অনেক হিন্দু টিচার আছে ৷ তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে আদাব বলে সম্ভাষণ করি ৷ আবার অনেকে নমস্কার বলে সম্ভাষণ করে ৷ যেহেতু আমরা মুসলিমরা সালামের মাধ্যমে সম্ভাষণ জানাই ৷ তাদের ক্ষেত্রে তো সালাম দিতে পারি না ৷ তাই জানার বিষয় হলো, হিন্দু টিচারদের কে আদাব, নমস্কার বলে সম্ভাষণ করা যাবে কিনা? যদি জায়েয না হয় তাহলে দেখা হলে কিভাবে কুশলবিনিময় করব ? এবং তাদেরকে সালাম দেয়ার বিধান কি? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
অমুসলিমদের সাথে উঠা বসা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে । তাদের নীতিমালা মুসলমানদের জন্য গ্রহন করা বৈধ নয় ৷ অতএব হিন্দু টিচারদের সাথে সাক্ষাৎ হলে আদাব, নমস্কার ইত্যাদি বলে তাদেরকে সম্ভাষন করা যাবে না ৷ আদাব শব্দের শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় যদিও একটু সুযোগ আছে, কিন্তু কোন ভাবেই তাকে নমস্কার বা
নমস্তে বলা যাবে না। তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে সৌজন্য প্রদর্শন হিসেবে তার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে বা অন্য কোনভাবে যেমন হাতের দ্বারা ইশারা করে কুশলবিনিময় করবে ।
কোন বিধর্মীর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দেওয়াও বৈধ নয় । সালাম শুধু এক মুসলমান আরেক মুসলমানকেই দিতে পারে। তবে যদি সে আগে সালাম দিয়ে ফেলে, উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম’ বা ইয়াহদীকুমুল্লাহ’ অথবা “আসসালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে।
-সহীহ বোখারী শরীফ, হাদীস: ৬২৫৮; সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদীস: ২১৬৭; রদ্দুল মুহতার ৯/৫২৭; রহীমীয়া,৬/১২৬ কিফায়াতুল মুফতী ৯/১০৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৯
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সেজদা না দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার পাশের ব্যক্তি আজ আসর নামায আদায় করতে গিয়ে মাসবুক হয়। ইমাম সাহেব নামায শেষে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা দিলেন। কিন্তু তিনি সাহু সিজদা না দিয়ে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বাকি নামায আদায় করতে লাগলেন৷ পরে ইমামের সাথে আর সিজদা দেয়নি। তবে নামায শেষে সাহু সিজদা দিয়েছে৷ জানার বিষয় হলো, ঐ ব্যক্তির নামায হয়েছে কিনা?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নামায শেষে সাহু সিজদা করার কারণে ঐ ব্যক্তির নামায আদায় হয়েছে। তবে তার উচিত ছিল ইমাম সাহু সেজদা দেয়ার পর ফিরে এসে ইমামের সাথে সিজদা করা এবং ইমামের সালামের পর বাকি নামায আদায় করা।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২৪ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০৬
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

নামাযীকে সালামের পর পাশের ব্যক্তি কম পড়েছে বললে নামাযীর করনীয় ৷

প্রশ্ন
হযরত দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন ৷ আমি গতকাল যোহরের নামায আদায় কররে সালাম ফিরানোর পর আমার পাশে নামায আদায়কারী ব্যক্তি আমাকে বলল, আপনি তিন রাকাত পড়েছেন। তখন আমি বললাম , না। আমি চার রাকাতই পড়েছি। এবং আমার তা ই প্রবল ধারনা হচ্ছে ৷
জানতে চাই, আমি কি ঐ ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করবো? নাকি আমার ধারনা অনুযায়ী আমল করবো?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সূরতে ঐ ব্যক্তির কথা শোনার পরও যদি আপনার নিজের কথার উপর প্রবল ধারণা থাকে যে, আপনি চার রাকাত পড়েছেন, তাহলে আপনার নামায পরিপূর্ণ হয়ে গেছে বলেই গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা ধর্তব্য হবে না এবং তদনুযায়ী আমল করাও জরুরি হবে না।
-হাশিয়াতুত্ত্বাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯০
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

তাহাজ্জুদ নামাযের রাকাত সংখ্যা ৷ 

প্রশ্ন
তাহাজ্জুদ নামায কত রাকাত? আমার আম্মু সবসময় বার রাকাত পড়েন ৷ তাহাজ্জুদ নামায নাকি বার রাকাত৷ এটা কতটুকু সঠিক ?
উত্তর
রাসূল সাঃ তাহাজ্জুদ নামায নামায কখনো চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। কখনো দশ রাকাত পড়তেন।
তাহাজ্জুদের নামায ১০ রাকাত পর্যন্ত পড়া রাসূল সাঃ থেকে সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়।
যেমন,আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, আমি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত পড়তেন।
সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮৷
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস থেকে বর্নিত তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী বিতর কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে সাত রাকাতের
কম এবং তের রাকাতের অধিক পড়তেন না।
সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদীস ১৩৫৭; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদীস ২৫১৫৯৷
তবে দশ রাকাতের চেয়ে বেশি পড়া যাবে না, এমন নয়। যেহেতু তাহাজ্জুদ নফল নামায তাই যত বেশি পড়া যায় ততই সওয়াব। তাই আপনার আম্মু বার রাকাত পড়লে কোন কোন সমস্যা নেই, তবে তাহাজ্জুদ নামায বার রাকাত, এমন মনে করা যাবে না ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৬৯
তারিখ: ১৭/১২/২০১৬
বিষয়: আদব-ব্যবহার

খানা খাওয়ার সময় সালাম ও তার জবাব দেয়া ৷

প্রশ্ন
অনেকে বলে খানা খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে যারা খানা খাচ্ছে তাদেরকে সালাম দিতে হয় না। জানার বিষয় হলো, এ টা কি সঠিক?
উত্তর
আহার কারি ব্যক্তি খানার মাঝে অন্যকে সালাম দিতে পারবে। সালাম দেওয়া নাজায়েয নয়। এমনিভাবে আহারকারীকেও খানা খাওয়ার মাঝে সালাম দেওয়া বৈধ। তবে যদি আহার কারির সালাম দেওয়া বা জবাব দেওয়া কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয় তাহলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। এবং এমন হলে সালাম দেওয়া মাকরূহ হবে। এমতাবস্তায় সালামের জবাব দেওয়াও ওয়াজিব নয়৷
রদ্দুল মুহতার ১/৬১৭, ৬/৪১৫; আলমাজমূ’ ৪/৪৬৯; ফাতহুল বারী ১১/১৯-২১৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫৩
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: আদব-ব্যবহার

হিন্দু বাড়িতে খানা খাওয়া৷

প্রশ্ন
আমার একজন কর্মচারী হিন্দু সে তার বাসায় অনেকদিন থেকে আমাকে দাওয়াত খেতে বলছে কিন্তু আমি বিভিন্ন ভাবে তাকে অজুহাত দিয়ে দাওয়াত গ্রহন করছি না এমতাবস্থায় সে খুব মন খারাপ করেছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, হিন্দুর বাসায় কি আমার দাওয়াত খাওয়া ঠিক হবে?
উত্তর
হিন্দু বা বিধর্মীদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েয। আর প্রয়োজনে তাদের বাড়িতেও খানা খাওয়া জায়েয। তাই প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা
খেতে পারবেন। তবে তাদের যবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম।
কেননা,সূরা আনআ’মের ১১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিধান দিয়েছেন:
ﻓَﻜُﻠُﻮﺍْ ﻣِﻤَّﺎ ﺫُﻛِﺮَ ﺍﺳْﻢُ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻪِ ﻣُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ
“অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে বিশ্বাসী হও।”
সুতরাং তাদের বাড়িতে মুরগী ইত্যাদির গোশত খাওয়া থেকে৷বিরত থাকতে হবে।
আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৫১
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: আদব-ব্যবহার

বেনামাজীকে সালাম দেয়া ও তার বাড়িতে খানা খাওয়া৷

প্রশ্ন
বেনামাজীকে সালাম দেয়া যাবে কি? এবং তার হাতে বানানো বা বেনামাজীর বাড়িতে খাওয়া যাবে কি?
উত্তর
সালাম শুধু অমুসলিমকে দেয়া যায় না। মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬৩৫৷
আর বেনামাজী অমুসলিম নয়। সুতরাং তাকে সালাম দেয়া যাবে।
বেনামাজীর খানা হালাল হলে তার বাড়িতে খানা খাওয়াও জায়েয। খানার সাথে নামাজের সম্পর্ক নেই৷ তবে বেনামাজীকে নামাজের দাওয়াত দেওয়া উচিত৷
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের ছয়টি হক রয়েছে। বলা হলো, সেগুলো কী হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন,
১৷ তুমি যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তাকে সালাম দেবে।
২৷ সে যখন তোমাকে নিমন্ত্রণ করবে তা রক্ষা করবে।
৩৷ সে যখন তোমার মঙ্গল কামনা করবে, তুমিও তার শুভ কামনা করবে।
৪৷যখন সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে, তখন তুমি ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে।
৫৷ যখন সে অসুস্থ হবে, তুমি তাকে দেখতে যাবে।
৬৷ এবং যখন সে মারা যাবে, তখন তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে।’
মুসলিম, হাদীস নং ৫৭৭৮৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৬৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আদব-ব্যবহার

মুসলমানদের জন্য হিন্দুদের হোলি উৎসবে অংশগ্রহন করা৷

প্রশ্ন
মুসলিম ছেলে মেয়েদের হিন্দুদের হোলি উৎসবে অংশগ্রহণ বিষয়ে বিস্তারিত ফতোয়া জানালে উপকৃত হতাম।
উত্তর
কিছুতেই জায়েজ নয়। হাদীসে পরিস্কার ভাষায় এসেছে, যে ব্যক্তি যাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে। আর হোলী উৎসব এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব। যাতে অংশ গ্রহণ মানেই হল হিন্দুদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসবকে নিজের উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা। যা কিছুতেই বৈধ হতে পারে না। এছাড়াও হোলী উৎসবটির ইতিহাস জানা থাকলে কোন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিই এ নোংরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারে না। মূলত হোলী উৎসবের সূচনা হয়, ব্রক্ষ্মার আদেশে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণর কাছে নিজেকে সমর্পণ করলো রাধা। সারারাত কামসূত্রের চৌষট্টি কলা প্রয়োগ করলেন কৃষ্ণ। আবেগাপ্লুত অবস্থায় কৃষ্ণর দাঁত ও নখের আঁচড়ে এবং শ্রী রাধার কুমারিত্ব খণ্ডনে রাধা এমন লালে লাল হলেন যে, সকালে লজ্জায় আর বাইরে বেরোতে পারছিলেন না। সমস্যার সমাধানকল্পে কৃষ্ণ তার অনুসারীদের রঙ দিয়ে খেলার নির্দেশ দিলেন। সবাই যখন রঙে রঞ্জিত তখনই রাধা রক্তাক্ত কাপড় নিয়ে বাইরে বের হয়ে এলেন এবং বাড়ি ফিরলেন। এই হলো হোলির ইতিহাস। এমন নোংরা কর্মের স্মৃতিবাহী একটি বিধর্মী উৎসবে কোন মুসলিমতো দূরে থাক, কোন ভদ্রলোক যেতে পারে বলেও আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। তাই এ উৎসবে অংশগ্রহণ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
‎ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
‎ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻣَﻦْ ﺗَﺸَﺒَّﻪَ ﺑِﻘَﻮْﻡٍ ﻓَﻬُﻮَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ
হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৩১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৩০৫০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আদব-ব্যবহার

হিন্দুদের সালামে কী বলব?

প্রশ্ন
হিন্দুদের সালামে কী বলব?
উত্তর
কোনো হিন্দু বা বিধর্মী সালাম দিলে
জবাবে শুধু ‘‘ওয়া আলাইকুম’’ বলবেন। হাদীস
শরীফে এসেছে, আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করেন, কয়েকজন সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট আরয করলেন, আহলে কিতাব আমাদেরকে সালাম দিয়ে থাকে। আমরা তাদেরকে কীভাবে এর উত্তর দিব?তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘‘ওয়া আলাইকুম’’ বলবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭২; আদ্দুররুল মুখতার
৬/৪১২

ফতোয়া নং: ৩০৪৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আদব-ব্যবহার

অনেক সময় আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে একসাথে সালাম...

প্রশ্ন
অনেক সময় আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে একসাথে সালাম দিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? একজন আলেম বলেছেন, এমন হলে উভয়কেই উত্তর দিতে হবে। তার কথাটি কি ঠিক? আর যেক্ষেত্রে একটু আগ-পর করে সালাম দেওয়া হয় সেক্ষেত্রেও কি উভয়কে উত্তর দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। দুজন পরস্পরকে একসাথে সালাম দিলে প্রত্যেককে অন্যের সালামের জবাব দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কারো সালাম আগে হলে পরবর্তী জনের সালাম জবাব হিসেবে ধর্তব্য হবে। উল্লেখ্য, সালামের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় হল, কেউ সালাম দিলে (তিনি বড় ব্যক্তি হোন বা
ছোট) অপর ব্যক্তি স্পষ্টভাবে শুনিয়ে সালামের
জবাব দিবে। এক্ষেত্রে পাল্টা তাকে আবার সালাম
দেওয়া নিয়ম পরিপন্থী কাজ। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৪১; শরহে মুসলিম, নববী ১৭/১৭৮; মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৪৫৪,
৮/৪৬৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
১৮/৭৮
ফতোয়া নং: ২৩৪৮
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আদব-ব্যবহার

মাসবুক যদি ইমামের সালামের সাথে একদিকে বা উভয় দিকে সালাম...

প্রশ্ন
মাসবুক যদি ইমামের সালামের সাথে একদিকে বা উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে এর হুকুম কী এবং সিজদায়ে সাহু লাগবে কি না?
উত্তর
মাসবুক যদি ইমামের সালামের পূর্বে অথবা একেবারে সাথে সালাম ফিরিয়ে থাকে তাহলে তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে না। আর যদি ইমামের সালামের পর সালাম ফিরিয়ে থাকে তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২২; ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৪; আদ্দুররুল মুখতার
১/৫৯৯

Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.